মেসির আরেকটি হ্যাটট্রিক

Wednesday, March 21, 2012

মেসির আরেকটি হ্যাটট্রিক

অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ২১-০৩-২০১২
ক্রমেই যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন লিওনেল মেসি। কয়েক দিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে পাঁচটি গোল করে ফুটবল জগতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন বার্সেলোনার এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। সেই ঘোরের রেশ কাটতে-না কাটতেই আবার নতুন একটি রেকর্ড গড়ে ফেললেন ফিফার এই বর্ষসেরা ফুটবলার। গতকাল লা লিগায় গ্রানাডার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটা ভেঙে ফেলেছেন মেসি। ২৩৪ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি স্প্যানিশ ফুটবলার সিজার রদ্রিগেজকে। মেসির এই দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে কাতালানরাও পেয়েছে ৫-৩ গোলের জয়। লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানও কমিয়েছে গতবারের শিরোপাজয়ীরা। তবে বার্সেলোনা এখনো রিয়াল মাদ্রিদের পেছনে থাকলেও লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে রিয়ালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছেন ২৪ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। রোনালদোর থেকে দুই গোলে এগিয়ে থেকে ৩৪ গোল নিয়ে মেসিই এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুধু গত সাত ম্যাচেই তাঁর পা থেকে এসেছে ১৭টি গোল।
ম্যাচ শেষে শিষ্যকে উচ্চকিত প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা। তিনি বলেছেন, ‘যারা মেসির শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে চায় না, তাদের জন্য আমার দুঃখিত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আজকে তার খেলাটা সত্যিই সেরা। মাইকেল জর্ডান তাঁর এলাকায় রাজত্ব করেছেন। মেসিও ফুটবলে সেই একই জিনিসটা করছে। এর বেশি আর কিছু বলার নেই।’ তবে মেসি গোল তালিকার শীর্ষে উঠে গেলেও মৌসুম শেষে বার্সাকে শিরোপা জয়ের জন্য রিয়ালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমাতে হবে আরও পাঁচটি পয়েন্টের।—রয়টার্স

সাংবাদিক দম্পতি হত্যা


সাংবাদিক দম্পতি হত্যা

ডিবির প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে


সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে হাইকোর্টের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আজ বুধবার বিকেলে এ প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আজ বিকেলে প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন বলেন, বিকেলে ডিবির প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি কাল বৃহস্পতিবার সরাসরি আদালতের কাছে জমা দেওয়া হবে। তার আগে এর বিষয়বস্তু সম্বন্ধে জানার কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই হত্যার কারণ উদঘাটনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি ও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন।
সাগর-রুনি হত্যার কারণ উদঘাটন এবং খুনিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

বন্ধের নির্দেশ ফেসবুকের পাঁচটি পেইজ, একটি ওয়েবসাইট


ফেসবুকের পাঁচটি পেইজ, একটি ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২১-০৩-২০12
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ফেসবুকের পাঁচটি পেইজ ও একটি ওয়েবসাইট বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অর্ন্তবর্তীকালীন এ আদেশ দেন।
স্বরাষ্টসচিব, তথ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনকে (বিটিআরসি) আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে।
পাঁচটি ফেসবুক পেইজ ও একটি ওয়েবসাইটের কথা তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বতুল সারওয়ার ও ঢাকা সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ইকনোমিকসের (ডিসিএলই) অধ্যক্ষ এম নুরুল ইসলাম হাইকোর্টে গত ২৬ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেন। আজ প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি ও অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান, নওশাদ জমির, ফাতেমা আনোয়ার ও রাগিব রউফ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী নওশাদ জমির প্রথম আলোকে বলেন, এসব ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজে হজরত মুহাম্মদ (স.) ও ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে। আবেদনে ছয়টির বিষয়ে বলা হয়েছে। এসব সাইটে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা ধর্মীয় মূল্যাবোধ ও সংবিধান পরিপন্থী। আদালত এসব পেইজ ও সাইট বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রুলও জারি করেছেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আদালত ফেসবুকের পাঁচটি পেইজ ও একটি ওয়েবসাইট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়ে আদালত রুলও জারি করেছেন।
রুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক বা অন্য ওয়েবসাইটে থাকা ওই সব ইউআরএল (ইউনিভার্সাল রিসোর্স লোকেটর) গ্রুপ বা পেইজ স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অশালীন বিষয়বস্তু আপলোড করায় এসব সাইট বা ওয়েব পেইজের প্রতিষ্ঠাতাদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা-ও রুলে জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে একই ধরনের অশালীন ও জঘন্য আধেয় প্রদর্শনকারী সাইট বা ওয়েব পেইজ বন্ধের ধারবাহিকতা কেন নিশ্চিত করা হবে না, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিবসহ পাঁচ বিবাদীকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

স্বপ্নপূরণের দিন



স্বপ্নপূরণের দিন

উৎপল শুভ্র | তারিখ: ২২-০৩-২০১2
আর একটা সিঁড়ি ভাঙলেই সাফল্যের শীর্ষ বিন্দু, শিরোপা! কাল মিরপুরে কঠোর অনুশীলনে মগ্ন বাংলাদেশ দল
আর একটা সিঁড়ি ভাঙলেই সাফল্যের শীর্ষ বিন্দু, শিরোপা! কাল মিরপুরে কঠোর অনুশীলনে মগ্ন বাংলাদেশ দল
শামসুল হক
ভারতীয় সাংবাদিকদের মনে পড়ে যাচ্ছে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ। শ্রীলঙ্কানদের ১৯৯৬। মনে পড়ছে সেই ক্রিকেটীয় রূপকথা—সব পূর্বানুমান ঝোড়ো হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়। মনে করিয়ে দিচ্ছে মুশফিকুর রহিমের দল। এই এশিয়া কাপের বাংলাদেশও তো এমনই এক অভাবিত বিস্ময়।
আজ ২২ মার্চ এশিয়া কাপের ফাইনাল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই দিনটিতে বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটীয় বিবেচনাবোধ বা সমর্থন অনুযায়ী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দুটি দলকে নিয়ে জোড় সাজিয়েছে। অতি কল্পনাবিলাসীও বাংলাদেশকে ফাইনালে ভাবতে সাহস পায়নি। সেই অভাবিত ঘটনা যখন ঘটেই গেছে, স্বপ্নটা কি আরেকটু দীর্ঘ হতে পারে না! ১৯৮৩ ও ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কার রূপকথা দেখেছিল মধুরেণ সমাপয়েৎ। মুশফিকুর রহিমের দল কি পারবে ইজেলে তুলির শেষ পোঁচটা দিতে?
হারানোর তো কিছু নেই। ফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতম খেলোয়াড় ইউনুস খান এটিকেই দেখালেন বাংলাদেশের বড় শক্তি বলে, ‘ওদের তো হারানোর কিছু নেই।’ কিছুক্ষণ পর মুশফিকুর রহিমও বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রার রহস্য বলে মানলেন এটিকেই, ‘পুরো টুর্নামেন্টেই আমাদের হারানোর কিছু ছিল না।’
আজও নেই। তবে পার্থক্য তো একটা আছেই। এত দিন বাংলাদেশ একেকটা ম্যাচ ধরে ভেবেছে, বৃহত্তর ছবিটা কখনো কল্পনায়ও আনেনি। পর পর দুই ম্যাচে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর যে বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপটই। দেশজুড়ে উড়ছে প্রত্যাশার ফানুস—ট্রফিটা চাই-ই চাই!
পাকিস্তান যথেষ্টই প্রবল প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের কাছে এক রকম অজেয়ও। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এই একটা দলকেই এখনো হারানো হয়নি। তবে পাকিস্তানের চেয়েও আজকের ফাইনালে বড় প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে প্রত্যাশার ওই সীমাহীন চাপকে। এর সঙ্গে তো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই প্রথম পরিচয়!
প্রথম পরিচয়, ঠিক আছে। তাই বলে সেটি জয় করা যাবে না, এমন তো নয়। অভূতপূর্ব কত কিছুই না ঘটল এই টুর্নামেন্টে! এতই যে, এই বাংলাদেশকে আমাদের এত দিনের চেনা-জানা কোনো দল বলেই মনে হচ্ছে না। এই দল এক-দুজনের মুখ চেয়ে তাকিয়ে থাকে না। যখন যাঁর কাছে সময়ের দাবি, সে-ই হাত তুলে দাঁড়িয়ে যায়। এই দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হেলায় হারায়। বিশ্বকাপ রানার্সআপদের বলেকয়ে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেয়।
ইউনুস খানের চোখে পড়ছে আরেকটা বড় পরিবর্তনও। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা। কি বোলিং, কি ফিল্ডিং, কি ব্যাটিং—সবকিছুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজ। দলের মানসিকতাটাই এমন বদলে গেছে যে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ফাইনালটাকে ‘চাপ’-এর বদলে মনে করছেন সুযোগ, ‘এই যে সুযোগটা এসেছে, এটা তো সব সময় আসে না।’
ইউনুস খানের আরেকটি কথাও মনে করিয়ে দিল ১৯৯৬ বিশ্বকাপের শ্রীলঙ্কাকে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনায়াস রান তাড়া দেখে বাংলাদেশকে ‘ভেরি গুড চেজিং টিম’ বলে রায় দিয়ে দিলেন। অর্জুনা রানাতুঙ্গার দলেরও বড় পরিচয় ছিল এটা। এখানেও একটা ফেঁকড়া আছে। টানা তিন ম্যাচেই পরে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। মিরপুরের উইকেট কৃত্রিম আলোয় আরও বেশি ব্যাটিংবান্ধব প্রমাণিত বলে কিছুটা সুবিধাও পেয়েছে। আজও টস-ভাগ্য মুশফিকুরের দিকে তাকিয়ে হাসবে তো?
এসব নিয়ে ভাবাই উচিত নয়। কারণ, ভেবে লাভ নেই। পরে ব্যাটিংয়ের সুবিধা তো সম্প্রতি আবিষ্কৃত। নইলে ভারতের হাতে ব্যাট তুলে দেওয়ার পর স্কোরবোর্ডে ২৮৯ উঠে যাওয়ায় মুশফিকুরের ওই সিদ্ধান্তের কি কম সমালোচনা হয়েছিল! ‘ফাইনাল’ শব্দটা মাথায় বেশি ঘুরপাক না খেলে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করেও জিততে পারে, পরে ব্যাটিং করেও।
কিন্তু কার হাতে লুকিয়ে জয়ের চাবি? কোনো একজনের নাম যে বলার উপায় নেই। টুকটাক পারফরম্যান্স আছে সবারই। তবে তার মধ্যেও তিন ম্যাচেই আলাদা ঔজ্জ্বল্যে জ্বলেছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। ইনিংসের শুরুতে ও মাঝখানে আজও এই দুজনের ব্যাটের দিকে আশায় তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। সাকিবের কাছে তো চাওয়ার শেষ নেই। বল হাতেও ম্যাজিকের প্রত্যাশা তাঁর কাছে।
টানা তিন ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা তামিমের জ্বর বাংলাদেশ দলে একটা ভয়ের কাঁপনই ছড়িয়ে দিয়েছিল। গত পরশু জ্বর-জ্বর ভাব নিয়েই খেলেছেন ওই অসাধারণ ইনিংসটা। জ্বর বাড়ায় কাল অনুশীলনও করেননি। তবে রাতের দিকে জ্বর একটু কমায় বাংলাদেশ দলেরও ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে। তামিমের খেলার সম্ভাবনার পাশে তাই খুবই ছোট্ট একটা প্রশ্নচিহ্ন। আর কারও পাশে সেটিও নেই। তামিমের জ্বর হঠাৎ খুব বেড়ে না গেলে শ্রীলঙ্কাকে হারানো দলটিই আজ অপরিবর্তিত থাকার কথা।
জ্বর-টর থাকলেও হয়তো তা নিয়েই নেমে যাবেন তামিম! এমন ম্যাচ তো তাঁর জীবনে আর আসেনি। আবার কবে আসবে, কে জানে! এ তো শুধু ফাইনাল নয়, বাংলাদেশের উদ্যাপনের দিন। তা ফলাফল যা-ই হোক না কেন! কী বলছেন, হেরে গেলে উদ্যাপনের কী আছে? কেন, বাংলাদেশের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলাটাই কি উদ্যাপনের যথেষ্ট উপলক্ষ নয়!

মাননীয় স্পিকার

শাস্তি দিচ্ছেন না কেন মাননীয় স্পিকার?

মিজানুর রহমান খান | তারিখ: ২২-০৩-২০১২
বাংলাদেশের সংসদকক্ষে বাকস্বাধীনতার চরম অপব্যবহার চলছে। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, সংসদের ফ্লোর যেন যা মুখে আসে তা-ই বলার এক স্বর্গরাজ্য। নারী সাংসদেরাও নারীত্বের অবমাননায় বেপরোয়া।
শুধু দুই বড় দলের বিরোধের ক্ষেত্রেই নয়, ‘হাউস অব দ্য নেশন’-এর ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ব্যক্তি বিদ্বেষ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্ধ আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি। ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে মানহানি ও চরিত্রহননের অপচেষ্টাও বিরল নয়। একটি খারাপ দৃষ্টান্তকে অতীতের আরেকটি খারাপ দৃষ্টান্তকে টেনে এনে জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়।
গত রোববার সংসদে দেওয়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই নারী সাংসদের অশালীন এবং অসংসদীয় বক্তব্য দণ্ডনীয়। সংবিধান বলছে সংসদের কার্যবিবরণীর বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। এটা নিঃশর্ত লাইসেন্স নয়। সংবিধান নৈতিকতা ও শালীনতাসাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।
প্রাচীন ইংল্যান্ডে হাউস অব কমন্স একই সঙ্গে আদালত ও সংসদের ভূমিকা পালন করত। ক্রমান্বয়ে সংসদ ও বিচার বিভাগ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। শেষ পর্যন্ত রফা হয় এই মর্মে যে, সংসদে যা কিছুই বলা হোক, আদালত তার বিচার করতে পারবেন না। আদালতের হাত সংবিধান তাই খাটো করে দিয়েছে। কিন্তু আইনের সীমা লঙ্ঘনকারী সংসদ সদস্যদের শাস্তিদানে স্পিকারের হাত যথেষ্ট লম্বা রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা আছে পার্লামেন্ট কোনো অবস্থাতেই বাকস্বাধীনতা খর্ব করে আইন তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু সেখানকার সংসদেও বাকস্বাধীনতায় লাগাম পরানো আছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাসে এ পর্যন্ত পাঁচজন কংগ্রেসম্যানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদের সংসদে অসংসদীয় ভাষা স্পিকার কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দিয়ে থাকেন। কিন্তু দোষীদের বিরুদ্ধে যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সংসদ অশালীন, অবাঞ্ছিত এমনকি অশ্লীল বক্তব্য প্রদানের উন্মুক্ত মঞ্চে পরিণত হতে পারে। সে কারণেই আজ সময় এসেছে স্পিকারকে সংবিধান ও আইন নির্দেশিত ক্ষমতা প্রয়োগ করার।
সংসদকক্ষে কোনো সাংসদ গুরুতর বিশৃঙ্খল আচরণ করলে স্পিকার তাঁকে তাৎক্ষণিক বের করে দিতে পারেন। কিসে গুরুতর বিশৃঙ্খলা ঘটে তা নির্দিষ্ট করার ক্ষমতা স্পিকারের। এ জন্য কোন সাংসদ কতক্ষণ ধরে সংসদে নিষিদ্ধ থাকবেন সে সময়টাও স্পিকার ঠিক করবেন। এখানে একটি চমকপ্রদ সংসদীয় রীতি রয়েছে। কারও অসদাচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্পিকার যদি তাঁর নাম উচ্চারণ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেই হবে। বিশ্বের অনেক আইনসভায় কারও নাম স্পিকার মুখে নেওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রস্তাব আনা হয়। এবং সে প্রস্তাবটি কোনো আলোচনা ছাড়াই স্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে ভোটে দিতে পারেন।
ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে অনুসৃত এই রীতিটি সম্পর্কে ব্রিটিশ সংসদ বিশেষজ্ঞ পল সিল্ক ও রোদ্রি ওয়াল্টার্স বলেছেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক আইনসভায় উত্তেজনা কখনো ফেটে পড়তে পারে। এ রকম অবস্থায় স্পিকারের ক্ষমতা রয়েছে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। হয় তিনি তাঁকে ওই দিনের জন্য বের করে দেবেন, আর অপরাধ গুরুতর হলে তিনি তাঁর নাম নেবেন। তিনি নাম নিলেই কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ত্বরিত তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রস্তাব আনবেন এবং তা নিশ্চিতভাবেই পাস হবে। কোনো উচ্ছৃঙ্খল সংসদ সদস্যের প্রথম অসদাচরণের ঘটনায় পাঁচ কার্যদিবস, দ্বিতীয় ঘটনায় ২০ কার্যদিবস এবং তৃতীয়বারের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কারাদেশ চলবে।’
বাংলাদেশে ফাঁক ও ফাঁকিটা এখানেই। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সংসদীয় গণতন্ত্র অনুসরণ করে থাকে, সেসব দেশে যেভাবে নির্বাচন করে, সেভাবে আগামী নির্বাচন হবে। কিন্তু বিশ্বের অপরাপর সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশগুলোর লিখিত সংবিধানের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের সংবিধানটি একটি উদ্ভট, অদ্ভুত ও জবুথবু দলিল হিসেবেই চিহ্নিত হবে। অন্যান্য সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে এর মিল নেই। অনেকেই বলবেন, সাত মণ তেল জুটবে না, রাধাও নাচবে না। কোনো বাংলাদেশি স্পিকার ক্ষমতাসীন দলের কারও নাম পারতপক্ষে নেবেন না। এবং তেমন অবস্থায় যাতে পড়তে না হয় সেজন্য তিনি আইন থেকে পালাবেন। তিনি ভালোমানুষ হতে চাইবেন। তিনি তাই বিরোধী দলেরও কারও নাম নেবেন না। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাময়িক বহিষ্কারে স্পিকারের ক্ষমতার প্রয়োগ দাবি করেছেন। তিনি বিরোধীদলীয় সাংসদ রানুর শাস্তি চাইতে পারেন কিন্তু স্পিকার নিরপেক্ষ হতে পারলে উভয় দল থেকেই দোষী খুঁজে পাবেন।
এমন কিছু সময় আসে, যখন দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিকে সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সত্ত্বেও বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হয়। আর এ ধরনের একটি পদক্ষেপ পুরো সংসদীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ধারার সূচনা ঘটাতে পারে।
স্পিকার যেসব অশালীন ও অসংসদীয় শব্দ কর্তন করেছেন তা লাইভ সংসদীয় টিভির কল্যাণে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব শুনেছে। সংসদীয় রীতি হচ্ছে স্পিকারের বাদ দেওয়া শব্দ গণমাধ্যমে সম্প্রচার হবে না। পত্রিকায় ছাপা হবে না। সংসদের কার্যবিবরণীতে মুদ্রিত হবে না। কিন্তু সে যুগ বাসী হয়ে গেছে। সংসদে টানা দুদিন যেভাবে ‘নিষিদ্ধ পল্লি’ কথাটি উচ্চারিত হলো, তাতে আশঙ্কা করা যায় এটাই শেষ ভীমরতি নয়।
বাংলাদেশের কার্যপ্রণালি বিধিতেও অসদাচরণের দায়ে সংসদ সদস্যের বহিষ্কারের বিধান আছে। সাংসদদের আচরণবিধি নেই। কিন্তু না থাকলেও স্পিকারই সর্বেসর্বা। স্পিকারের দ্বারা উল্লিখিত নাম নেওয়ার রীতি আমাদেরও আছে। কখনো প্রয়োগ হয়নি। বলা আছে, স্পিকার কোনো সদস্যের নাম নিলে তাঁকে সংসদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ‘অধিবেশনের অনধিক অবশিষ্ট সময়ের জন্য’ বহিষ্কার করা যাবে। এ রকমভাবে বহিষ্কৃত কোনো সদস্যকে অবিলম্বে সংসদের সীমা ত্যাগ করতে হয়। তবে পরে এ রকম বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তাব আনা যায় এবং তা প্রত্যাহারও হতে পারে। অবশ্য কারও সংসদ সদস্য পদ স্থায়ীভাবে খারিজ করার বিধান নেই। এখানেও আমরা ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদীয় রাজনীতিকে বিকলাঙ্গ করে রাখার বিধানটি মনে রাখব।
উন্নত গণতন্ত্রেও অসদাচরণের দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিধান আছে। সংসদ এটা পারে কি না ভারতের দুটি হাইকোর্ট দুই রকম রায় দিয়েছেন। আমরা মনে করি পারে। বিংশ শতাব্দীতে হাউস অব কমন্সের তিনজন সদস্যকে স্পিকার বহিষ্কার করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে সংসদীয় কমিটিতে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার জন্য লেবারদলীয় গ্যারি হ্যালিঘানকে বহিষ্কৃত হন। ভারত সেই ১৯৫১ সালেই সাংসদ বহিষ্কারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বিচার বিভাগকে বাধাগ্রস্ত ও মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে ১৯৭৭ সালে লোকসভা ইন্দিরা গান্ধীকে বহিষ্কার করেছিল। ২০০৫ সালে টাকা খেয়ে প্রশ্ন করার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ১১ সাংসদকে রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাকিস্তানে সম্পদের বিবরণী দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীসহ দুই শতাধিক সাংসদের পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশে সাংসদেরা এক অপরিসীম দায়মুক্তির বৃত্ত গড়ে তুলেছেন। এঁদের কিছুতেই কিচ্ছুটি হয় না। সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংসদের চুপ থাকা রহস্যজনক। সন্দেহ হয়, দায়মুক্তির সংস্কৃতি রক্ষার একটা আঁতাত আছে দুই দলের মধ্যে। এখন আইনকে চলতে দিলে, পরে আইন প্রয়োগকারীর বিরুদ্ধেও চলতে পারে। বাংলাদেশ তো সব অসম্ভবের দেশ। সুতরাং ক্ষমতাসীনদের হম্বিতম্বি সীমিত থেকে যায়।
স্পিকার আবদুল হামিদ ১৯ মার্চ হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। কিন্তু তিনি বিএনপির আসিফা আশরাফির বক্তব্যের পর বলেছেন, ‘নিষিদ্ধ পল্লির ব্যাপারে যেসব কথা হয়েছে তা শোভন নয়। আমি তো বলতে পারি না কার নিষিদ্ধ পল্লির অভিজ্ঞতা আছে। তবে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্ত আপনাদেরই করতে হবে।’
আমরা তাঁর এ মন্তব্যে অস্বস্তির মধ্যে আছি। স্পিকার আরও বলেছেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় চিফ হুইফকে বলেছিলাম আলোচনার জন্য কিছু সিনিয়র নেতাদের নাম দিতে।’ এটা হাসির উদ্রেক ঘটাতে পারে। কারণ, সিনিয়র নেতারা কি সব সময় সংসদীয় ও শালীন ভাষায় কথা বলেন? অনেক সময় তাঁরাই তো প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেন।
অসংসদীয় শব্দভান্ডার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন রাখার মূল দায়িত্ব স্পিকারের। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বহু সংসদের অসংসদীয় ভাষার ওপর গাইডলাইন রয়েছে। ২০০৪ সালে অসংসদীয় শব্দ চিহ্নিত করে ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বই বের করেছেন। এ রকম একটা উদ্যোগ আমরাও আশা করি। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতিকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলেছে। স্পিকার শব্দটিকে অসংসদীয় বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর উদ্যোগ নিরপেক্ষ, কার্যকর ও অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পাবে যখন মানুষ দেখবে, অনুপস্থিত বিরোধী দলের উদ্দেশে সরকারি দলের যা খুশি শব্দ উচ্চারণে লাগাম পরাতে তিনি সমগুরুত্বে স্পর্শকাতর। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ২০ মার্চের দীর্ঘতম বক্তৃতায় ‘সংসদকে মাছের বাজার ও গালাগালির আখড়া’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বলেছেন, ‘বিএনপি না থাকলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা গালাগালি করেন।’ স্পিকার এই অভিযোগ খণ্ডন করেননি। তবে মাঝেমধ্যে তাঁকে আমরা সরকারি দলের বল্গাহীন বক্তব্যের রাশ টানতে দেখি। ১৮ মার্চে রানুর অশালীন মন্তব্য শুনে বিরোধী দলের নেতা টেবিল চাপড়িয়েছিলেন। দুদিন পরে তিনি যেন কৈফিয়ত দিলেন। বললেন, সংসদে মন্ত্রীদের গালাগালি শুনে নতুনরা শিখছে। প্রধানমন্ত্রী এর আগে বেগম জিয়ার উদ্দেশে ‘কোলে চড়া’ সংক্রান্ত অনৈতিক মন্তব্য করেন। এর আইনি প্রতিকার বিএনপিকে খুঁজে পেতে হবে। কিন্তু বেআইনিভাবে তারা সংসদের অপব্যবহার করতে পারে না।
মাননীয় স্পিকারকে কাজটা শুরু করতে হবে। কিছু বিতর্ক হয়তো হবে। আমরা সমাজে অনেক সময়ই দেখি, অনেক অনাচারের প্রতিকারের আইনানুগ উদ্যোগ নেওয়া হয় না, অভিযুক্তের প্রতি অনুকম্পাজনিত কারণে নয়। বরং তা এই আশঙ্কায়ও যে, তাহলে দ্রুত কথা উঠবে। বলা হবে নিকট অতীতে যিনি শুরু করেছিলেন তখন স্পিকার কেন ভূমিকা পালন করেননি। আমরা স্পিকারের তরফে এই ধরনের নির্লিপ্ততা আশা করি না।
ভারতীয় সংসদ বিশেষজ্ঞ কাউল ও শাকধার ১৯৫৮ সালে দেওয়া উড়িষ্যা হাইকোর্টের বরাতে লিখেছেন, বাকস্বাধীনতার সীমা সংসদকক্ষে লঙ্ঘিত হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হবে সেটা নির্ধারণে স্পিকারের ক্ষমতা রয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার অপর এক রায়ে বলা আছে, স্পিকার যদি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রক্রিয়াগত ভুল পদক্ষেপও নেন, তাহলেও আদালত বা অন্য কারও হাত নেই তা খতিয়ে দেখার। পাশ্চাত্যে ‘দুর্বৃত্ত’ এমপিদের সংসদে নিষিদ্ধ করা হয়। আমাদের স্পিকারও যাতে সেটা পারেন সেই সামর্থ্য তাঁকে অর্জন করতে হবে। বেগম জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্পিকার তাঁর বারোটা বাজার শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন সংসদের পরিবেশের বারোটা বাজানোয়।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।

লোডশেডিং

জ্বালানির হিসাব বলছে এবার লোডশেডিং বেশি হবে

অরুণ কর্মকার | তারিখ: ২২-০৩-২০১2
সরকার এ বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিং এক হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বললেও জ্বালানির (তেল-গ্যাস) হিসাব বলছে, লোডশেডিং অনেক বেশি হবে। এমনকি চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াটও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জ্বালানির স্বল্পতা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নানা সমস্যা এবং বিতরণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ বছর গ্রীষ্মেও বিদ্যুৎ-পরিস্থিতি বেশ খারাপ থাকবে। চলতি সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশের লোডশেডিং-পরিস্থিতির মাধ্যমে এর আলামতও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি: গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি (১০০০ মিলিয়ন) ঘনফুট। বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে আশি কোটিরও কম। গতকাল বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ৭৮ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। একাধিক সার কারখানা বন্ধ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আগেই। কিন্তু কোনোভাবেই ১০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে।
সরকার এখনো ভাড়াভিত্তিক ও কুইক রেন্টাল মিলিয়ে মোট ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি সই করেছে। এর মধ্যে ১৭টি চালু হয়েছে। বাকি তিনটি এ মাসেই চালু হওয়ার কথা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় চুক্তি করা প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রও ভাড়াভিত্তিক ও তেলচালিত। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বছরে প্রায় ২০ লাখ টন জ্বালানি (ফার্নেস ও ডিজেল) তেল দরকার।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগামী জুন পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মোট নয় লাখ ৭০ হাজার টন জ্বালানি তেলের চাহিদা দিয়েছিল। এর মধ্যে সাত লাখ ৩০ হাজার টন ফার্নেস তেল ও দুই লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল।
বিপিসি সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের ওই চাহিদা কমিয়ে মোট চার লাখ ৬৮ হাজার টন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফার্নেস তেল তিন লাখ ৯০ হাজার টন ও ডিজেল ৭৮ হাজার টন।
সূত্র জানায়, যান্ত্রিক ও কারিগরি সমস্যার কারণে অধিকাংশ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, পারবেও না। অধিকাংশ কেন্দ্র নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অধিক তেল ব্যবহার করছে। সব কেন্দ্রে যথাসময়ে প্রয়োজনমতো তেল সরবরাহও কঠিন। সর্বোপরি বিদ্যুতের উৎপাদন-মূল্য যথাসম্ভব কম রাখার চেষ্টায় তেলের চাহিদা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিছু কম পাওয়া যাবে।
চাহিদা ও সরবরাহ: পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া এ বছরের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ চাহিদা (লোডশেডিংয়ের নির্ধারিত কর্মসূচি বা ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্ট বা ডিএসএমসহ) হবে সাত হাজার ৫১৮ মেগাওয়াট। এ সময় উৎপাদনক্ষমতা আট হাজার ৩০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও প্রকৃত সর্বোচ্চ উৎপাদন হবে ছয় হাজার মেগাওয়াট।
এই প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির সঙ্গে শিল্প ও অন্যান্য গ্রাহকের নতুন সংযোগ দেওয়ার ফলে আরও চাহিদা বাড়বে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট। আবাসিক গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দেওয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকার ১৮ হাজার ৮৮৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ দিচ্ছে। এই শিল্পগুলোরই দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা এক হাজার ৩৯৬ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর সূত্র জানায়, এ অবস্থায় ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার আবাসিক ও শিল্প-গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন গ্রহণ ও পর্যায়ক্রমে সংযোগ প্রদান চালু রাখছে। ফলে চাহিদা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে।
উৎপাদনের রেকর্ড: ১৬ মার্চ দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। পিডিবি জানায়, ওই দিন রাত আটটায় পাঁচ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এটি দেশে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ উৎপাদন।
সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। পরে তা আরও ২০ মেগাওয়াটের মতো বেড়েছে। ফলে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের সময় দেশের কোথাও কোনো লোডশেডিং থাকার কথা নয়।
এর আগে গত বছরের ২৯ আগস্ট সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।

১০০ টাকা ছাড়িয়েছে ডিমের ডজন


 
ডিমের ডজন ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে
আবুল হাসনাত | তারিখ: ২২-০৩-২০12
ডিমের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এক ডজন বা ১২টি ডিম কিনতে এখন ব্যয় করতে হচ্ছে অন্তত ১০৫ টাকা। ডিমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মুরগির দামও।
বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, অনেকেই ডিম ও মুরগি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। তার পরও কমছে না ডিম বা মুরগির দাম। আর দেশি মুরগির দাম তো আকাশ ছুঁয়েছে।
এমনিতেই বাজার চড়া। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে খাদ্যসূচকে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজার এখন সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। এ সময় ডিমের দাম বৃদ্ধি অনেককেই দুশ্চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে।
খামারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশে ব্যাপক হারে মুরগি নিধন হয়েছে। ফলে খামারগুলোতে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। তাই ডিমের উৎপাদনেও সংকট চলছে। এই সংকট আগামীতে আরও বাড়তে পারে।
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে গতকাল বুধবার এক হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে এর চেয়েও দুই থেকে তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। হাঁস ও দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকার ওপরে।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই ফার্মের ডিমের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে চার টাকা। আর এক মাসে বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এক বছরে ডিমের মূল্যবৃদ্ধির হার ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত বছরের এই সময়ে এক হালি ফার্মের ডিমের দাম ছিল ২২ থেকে ২৩ টাকা।
কারওয়ান বাজারে গতকাল ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৪ টাকা হালি। তবে পলাশী, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল বাজারে ডিমের হালি ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। দোকানিরা জানান, সারা দেশ থেকে ঢাকায় ডিম আসার পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমেছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়েই পাইকারি ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মুরগির বাচ্চা ও বাবা-মা মুরগি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। আর সারা দেশের চাহিদা হচ্ছে তিন কোটি।
বিএবির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবে সারা দেশের ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। দেড় থেকে দুই কোটি চাহিদার বিপরীতে গত ১০-১৫ দিন ধরে ঢাকায় ডিম আসছে এক কোটির মতো। তাই ডিমের দামও বেড়েছে।
রাজধানীতে ডিমের পাইকারি বাজার তেজগাঁওয়ে গতকাল ১০০ ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকায়। সে হিসাবে এক হালি ডিমের দাম ৩০ টাকা। আর প্রতি শ হাঁস ও দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হয় ৮০০ টাকায়। এতে প্রতি হালি হাঁস ও দেশি মুরগির ডিমের হালি দাঁড়ায় ৩২ টাকা।
তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমানতউল্লাহ বলেন, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে পোলট্রিগুলোতে সব মুরগি মারা যাচ্ছে। সে কারণে ডিমের উৎপাদন খারাপ। বাজারে ডিমের সংকট থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খামারিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই পোলট্রি খাতের অবস্থা খারাপ। অনেক খামারি ডিম উৎপাদনেও যায়নি, বাচ্চাও ফোটায়নি। তার ওপর এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে। ফলে ডিমের সংকট দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর ডিম ও মুরগির একটি বড় অংশ আসে গাজীপুর এলাকা থেকে। কালিয়াকৈরের পাইকপাড়ার মিনারা পোলট্রি অ্যান্ড ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী মঈনুল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ‘মুরগি নাই, তাই ডিমও নাই। এই কারণেই দাম বেশি। কালিয়াকৈরের প্রতিটা খামার বার্ড ফ্লুর কারণে শেষ হইয়া গেছে।’
মুরগি মিলছে চড়া দামে: ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে রাজধানীতে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ লাখ ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির চাহিদা রয়েছে। দেশব্যাপী চাহিদা হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ মুরগি। কিন্তু এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে চাহিদা অনুযায়ী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল বুধবার ঢাকায় ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৬ টাকায়। টিসিবির হিসাবে, এক বছরে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এক কেজি ওজনের দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকায়। আর ৮০০ গ্রাম ওজনের পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

ছাত্রলীগের সংঘর্ষ


পথচারীর মৃত্যু, ৬ জন সাময়িক বহিষ্কার

পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | তারিখ: ২২-০৩-২০১২
সদরঘাটের পাটুয়াটুলী এলাকায় গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সদরঘাটের পাটুয়াটুলী এলাকায় গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষকে ধাওয়া
ছবি: প্রথম আলো
পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে চশমা কেনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে আতঙ্কগ্রস্ত এক পথচারী মারা গেছেন। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে দুই ব্যবসায়ী ও ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন। গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছয় ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দুইটার দিকে পাটুয়াটুলীর নুরু অপটিক্যাল নামের দোকানে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী চশমা কিনতে যান। একটি চশমার দাম ২৫০ টাকা চাওয়া হলে তাঁরা ১০০ টাকা দিতে চান। দোকানের কর্মী ইমরান হোসেন অসম্মতি জানালে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের ১০-১৫ জন কর্মী ওই দোকানে গিয়ে ইমরানের ওপর চড়াও হন। তাঁরা ইমরানের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ইমরানকে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ব্যবসায়ীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংক, দুটি দ্বিতল বাস ও নতুন ভবনের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করেন।
বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে এক হয়ে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টা খানেক পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি ও সূত্রাপুর থানার পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। চারটার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের সড়কে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সুনীল ঘোষ নামের এক পথচারী (৬৫) অসুস্থ হন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে ওই পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জনতা ব্যাংকের কর্মচারী বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি বৈঠক করে। এতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ছয় ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন: ইমরান, রকি, হিমেল, সোহেল, জালাল ও বিনয় সরকার।
প্রক্টর কামালউদ্দীন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আখন্দ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নন। বহিষ্কৃতরা সাধারণ ছাত্র বলে দাবি করেন তিনি।
Copyright @ 2013 Prothom Alo. Designed by Templateism | MyBloggerLab